প্রশ্ন ঃ -ভারতীয় সংবিধানের প্রস্তাবনার তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো। এটা কি সংবিধানের অবিচ্ছেদ্য অংশ ? অথবা, ভারতীয় সংবিধানের প্রস্তাবনাকে মনে করা হয় 'সংবিধানের বিবেক', ব্যাখ্যা করো। অথবা, প্রস্তাবনার সংজ্ঞা দাও। ভারতীয় সংবিধানের প্রস্তাবনাটির তাৎপর্য আলোচনা করো। অথবা, ভারতীয় সংবিধানের প্রস্তাবনার তাৎপর্য ও গুরুত্ব নির্দেশ করো। অথবা, প্রস্তাবনা কাকে বলে? ভারতীয় সংবিধানে প্রস্তাবনার গুরুত্ব ব্যাখ্যা করো। / Explain the significance of the Preamble to the Indian Constitution. Is it an integral part of the constitution? Or, the Preamble of the Indian Constitution is considered to be the 'Conscience of the Constitution', explain. Or, define proposition. Significance of the Preamble to the Indian Constitution discuss Or, point out the significance and importance of the Preamble to the Constitution of India. Or, what is the proposal? Explain the importance of Preamble in Indian Constitution.

 উত্তর :- প্রস্তাবনার সংজ্ঞা : বর্তমানে সমস্ত দেশের লিখিত সংবিধানের শুরুতেই একটি প্রস্তাবনা বা মুখবন্ধ থাকতে দেখা যায়। কোনো দেশের সংবিধান রচয়িতাগণ সংবিধানের দ্বারা যে সমস্ত আদর্শ ও লক্ষ্যকে বাস্তবায়িত করার চেষ্টা করেন প্রস্তাবনায় তারই একটা ইঙ্গিত দেওয়া হয়।

১৭৮৭ সালে সর্বপ্রথম আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের সূচনার একটি প্রস্তাবনা সংযুক্ত হয়। আদর্শ, উদ্দেশ্য ও দর্শনকে অল্পকথায় এবং ভাবগম্ভীর শব্দের মাধ্যমে প্রস্তাবনায় তুলে ধরা হয়েছে।

১৯৭৬ সালের ৪২ তম সংবিধান সংশোধনের পর প্রস্তাবনায় পরিবর্তন  ঘটে। অতএব বর্তমান প্রস্তাবনা যেরুপে আমাদের সামনে রয়েছে তা হলো - 1 আমরা ভারতের জনগণ : ভারতীয় সংবিধানের প্রস্তাবনার সূচনায় "আমরা ভারতের জনগণ শব্দগুলো সংযুক্ত হয়েছে। এর মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে যে ভারতের প্রত্যেক সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী।

সার্বভৌম'

প্রস্তাবনায় ভারতকে সার্বভৌম, সমাজতান্ত্রিক, গণতান্ত্রিক, ধর্মনিরপেক্ষ, সাধারণতন্ত্র রূপে ঘোষণা করা হয়েছে। সার্বভৌম শব্দটির অর্থ হলো ভারত অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক ব্যাপারে স্বাধীন। ভারত কমনওয়েলথের সদস্য হলেও তার দ্বারা ভারতের সার্বভৌমিকতা ক্ষুণ্ণ হয় না। কমনওয়েলথের সদস্যপদ যেমন সে স্বেচ্ছায় গ্রহণ করেছে, তেমনি স্বেচ্ছায় পরিত্যাগ করতে পারে। 

সমাজতন্ত্র ১৯৪৭ সালের ৪২ তম সংশোধনের প্রস্তাবনায় সমাজতান্ত্রিক শব্দটি যোগ করা হয়েছে।

ধর্মনিরপেক্ষ ৪২-তম সংশোধনের মাধ্যমে ধর্মনিরপেক্ষতা শব্দটি সংবিধানের প্রস্তাবনায় যুক্ত করা হয়েছে। ধর্মনিরপেক্ষ শব্দটির অর্থ হলো ভারতের কোনো রাষ্ট্রীয় ধর্ম নেই ও ধর্মের ব্যাপারে রাষ্ট্র সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ। ভারতে সকল ধর্মাবলম্বী মানুষের ক্ষেত্রে সমান সুযোগ দানের নীতি গ্রহণ করা হয়েছে।

গণতন্ত্র :

 ভারতীয় সংবিধানের প্রস্তাবনায় ভারতকে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বলে অভিহিত করা হয়েছে। সংকীর্ণ অর্থে গণতন্ত্র হলো রাষ্ট্রনৈতিক গণতন্ত্র। ভারতে প্রতিনিধিত্বমূলক এবং সংসদীয় গণতন্ত্র প্রবর্তিত হয়েছে।

ভারতীয় সংবিধানের প্রস্তাবনার গুরুত্ব : 

সাধারণভাবে ভারতীয় সংবিধানের প্রস্তাবনার গুরুত্ব ও তাৎপর্যকে উপেক্ষা করা যায় না।

সংবিধানের অস্পষ্টতা দূরীকরণ : 

ভারতীয় সংবিধানের কার্যকরী অংশের কোনো শব্দ বা বাক্যের অর্থ সুস্পষ্ট না থাকলে ওই অংশের অর্থ পরিস্ফুট করার জন্য প্রস্তাবনা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সংবিধানের অস্পষ্টতা দূরীকরণের ক্ষেত্রে প্রস্তাবনার গুরুত্ব অসীম।

সংবিধান রচয়িতাদের উদ্দেশ্য : 

সংবিধানের প্রস্তাবনার অন্যতম গুরুত্ব হল — সংবিধান রচয়িতাদের উদ্দেশ্য বুঝতে প্রস্তাবনা সাহায্য করে। প্রস্তাবনার মাধ্যমে সংবিধানের আদর্শ ও আকাঙ্ক্ষা প্রকাশিত হয়

. The pre- amble reflects ideas and aspirations of our constitution

সংবিধানের দার্শনিক ভিত্তি : 

সংবিধানের প্রস্তাবনা ভারতীয় সংবিধানের দার্শনিক ভিত্তি। সংবিধান প্রণেতাগণ সংবিধান রচনার ক্ষেত্রে যে সমস্ত চতুর্থ সেমেস্টার দর্শন

সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ভাবধারা দ্বারা পরিচালিত হয়েছিলেন, প্রস্তাবনার মধ্যে তার সুস্পষ্ট প্রকাশ পরিলক্ষিত হয়।

সংবিধানের প্রস্তাব না সংবিধানকে উপলব্ধি করার চাবিকাঠি। সংবিধানের সবচেয়ে মূল্যবান অংশ | হিসেবে প্রস্তাবনা সংবিধানকে উপলব্ধি করার বিষয়ে প্রাথমিক ধাপ হিসেবে কাজ করে।

ভারতীয় সংবিধানের সবচেয়ে মূল্যবান অংশ প্রস্তাবনা। এমন প্রস্তাবনা বিশ্বের খুব কম দেশের সংবিধানে সংযোজিত হয়েছে ভারতীয় সংবিধানের প্রস্তাবনায় থাকা সাম্য, উদারনৈতিক গণতন্ত্র, স্বাধীনতা। ন্যায়ের আদর্শের তার উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছেন অধ্যাপক বার্কার।



Post a Comment

0 Comments